Friday , November 15 2019
Home / bangladesh / সাবেরের প্রস্তাবের ওপর হ্যাঁ-না ভোটে তালগোল

সাবেরের প্রস্তাবের ওপর হ্যাঁ-না ভোটে তালগোল



আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর উত্থাপিত একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি দিবসে সাবের চৌধুরীর আনা প্রস্তাবটি ছিল, 'সংসদের অভিমত এই যে, সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ওপর প্রচলিত অ্যাড-ভেলোরাম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ (স্পেসিফিক ট্যাক্স) করা হোক। ’

তবে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার বা গ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কণ্ঠভোটে দিলে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। প্রথমে বুঝতে না পেরে তারা ‘হ্যাঁ’ স্থলে ‘‘ ‘দেন দেন; অর্থাৎ তারা প্রস্তাবটি গ্রহণের পক্ষে সম্মতি দিয়ে দেন। পরে সংসদ সদস্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করে স্পিকার পুনরায় ভোটে দিলে সাবেরের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এর আগে সংশোধনী দিয়ে সাবের চৌধুরীর প্রস্তাবে সমর্থন জানান আরো ৯ জন সংসদ সদস্য।

সাবের তার প্রস্তাবের পক্ষে বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ অকালে মারা যায়। প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। প্রায় ৬১ হাজার শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: বদলে গেল বিকাশ অ্যাপ, থাকছে নানা অফার

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তামাকের যে করকাঠামো তা অত্যন্ত জটিল, পুরোনো ও অকার্যকর। বিশ্বের মাত্র ছয়টি দেশে এভাবে করারোপ করা হয়। অন্যদিকে ফিলিপিন্স, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশিরভাগ দেশে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি চালু আছে। এটি করা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।

সাবেরের প্রস্তাবের ওপর সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমান আইনে তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের সুযোগ নেই। চলমান বাজেটে স্তরভিত্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এবং গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়ত একদিন এটি হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে সাধারণত প্রস্তাবকারী সদস্য বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। অর্থমন্ত্রীও সাবেরকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু সাবের চৌধুরী তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে রাজি হননি।

তখন নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি নিষ্পত্তির জন্য কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদে কোনো বিষয় ভোটে দেওয়ার পর সরকারি দলের চিফ হুইপ বা অন্য কোনো হুইপ সাধারণত হাত তুলে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তবে এক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

ইত্তেফাক / কেআই


Source link